ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তপ্ত নির্বাচনী ময়দান: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা দাবি ও দেশজুড়ে টাকা উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা/সিরাজগঞ্জ/পঞ্চগড়: আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ঐতিহাসিক 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে গণভোট। দীর্ঘ ১৮ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের যখন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, ঠিক তখনই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা দাবি, নগদ অর্থ উদ্ধার এবং রাজনৈতিক বাদানুবাদে মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে এক চিঠিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিশেষ নিরাপত্তা চেয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অতীতের সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনের দাবি জানান তিনি।
বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের কামারখন্দে ভোট কিনতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছেন জামায়াত নেতা মোস্তাক সরকার। ময়নাকান্দি গ্রামে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয়রা ভিডিও করতে শুরু করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। এছাড়া একই উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াত আমির আব্দুল মোমিনকে টাকাসহ আটক করে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে প্রশাসন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশাল প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম দাবি করেছেন, জামায়াত কর্মীরা তাকেই ভোট দেবেন। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টায় বাড্ডার কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বুধবার দুপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে নগদ ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক করেছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বহনের বিষয়ে তিনি 'ব্যবসায়িক টাকা' দাবি করলেও নির্বাচনের আগের দিন এত টাকা উদ্ধার নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই বর্তমান অস্থিরতা ও রূপান্তর বুঝতে হলে ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়:
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সেই উত্তাল সময় থেকেই বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াই শুরু। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক স্বকীয়তা বিকশিত হয়।
১৯৫২-১৯৭১: ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনই ছিল ভোটাধিকারের জন্য। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।" * ১৯৯০ ও ২০০৭ (১/১১): ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন এবং ২০০৭-এর ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বারবার পটপরিবর্তন এনেছে।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আজ এক নতুন ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে দেশ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ২০২৬ সালের এই নির্বাচন—বাঙালি জাতি বারবার ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে। নির্বাচনের আগের দিন টাকা উদ্ধার, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা দাবি প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচন একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও ভোটারদের সচেতনতাই হতে পারে একটি অবাধ নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক, পঞ্চগড় ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এবং অনলাইন আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |